তুরস্ক-এর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি স্কুলে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রয়টার্স জানায়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) কাহরামানমারাস প্রদেশ-এর একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি জানান, নিহতদের মধ্যে ৮ জন শিক্ষার্থী ও ১ জন শিক্ষক রয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি একটি ব্যক্তিগত হামলা এবং এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী সম্পৃক্ততা নেই। হামলাকারী নিজেও পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় প্রশাসন।
কাহরামানমারাসের গভর্নর মুকেরেম উনলুয়ের জানান, অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী তার ব্যাগে ৫টি অস্ত্র ও ৭টি ম্যাগাজিন নিয়ে স্কুলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রগুলো তার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবার। সে স্কুলের ভেতরে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়।
এদিকে, তুরস্কে পরপর দুই দিনে স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটল। এর আগের দিন সানলিউরফা প্রদেশ-এর একটি স্কুলে এক সাবেক ছাত্র গুলি চালিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অন্তত ১৬ জনকে আহত করার পর আত্মহত্যা করে।
যাচাইবিহীন ফুটেজে দেখা গেছে, গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলের জানালা থেকে লাফিয়ে পড়ছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায় এবং স্কুল প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়।
উল্লেখ্য, তুরস্ক-এ বন্দুক আইন তুলনামূলক কঠোর হলেও, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।