ইউরোপে ৮৭ কোটি ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে ভারত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভারতের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত চার বছরে ইউরোপের দেশগুলোতে ৮৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করেছে ভারত। আগের চার বছরে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লুমবার্গের প্রকাশিত বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে ডিফেন্স নিউজ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ বাড়িয়েছে। এতে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউরোপের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ১৩টি দেশে গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পরই ভারতের অবস্থান। এর মাধ্যমে ইউরোপের প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলো সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করে। কামানের গোলাসহ বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদের সামরিক মজুত পুনর্গঠন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করেছে। ফলে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি বেড়ে রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি।

বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করে ভারত। দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এ অগ্রগতির সম্পর্ক রয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ইউরোপে সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় রপ্তানি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এ অবস্থান ধরে রাখতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

Home R3