সম্প্রতি সনাতনীদের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টসহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেয়া উচিত। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য তাওহীদি বিশ্বাস ও কোরআনের সাথে সম্পূর্ণরুপে সাংঘর্ষিক। তিনি তার বক্তব্যে নবী-রাসূলদের ব্যাপারে জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘পৃথিবীতে যখন অন্যায় নেমে এসেছিল, তখন দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। তিনি আরও বলেছেন, নবী-রাসূল নয়, দেবদেবীরাই পৃথিবী থেকে অন্যায় দূর করেছেন’, নাউজুবিল্লাহ।
মাওলানা মিয়াজী বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দুদের একার নয়, এটা আমাদেরও উৎসব’,নাউজুবিল্লাহ। ইসলামী বিধান মতে হিন্দুদের ধর্মীয় পূজা উৎসব মুসলমানদের উৎসব হতে পারে না। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন, ‘দুর্গাপূজা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দেয়’, নাউজুবিল্লাহ। মুসলমানদের বিশ্বাস একমাত্র আল্লাহ ও রাসুলই সত্য। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দিতে পারে না।
বিবৃতিতে খেলাফত আমীর আরও বলেন, সরকারের আইনমন্ত্রী সনাতনীদের শুভযাত্রায় অংশ নিয়েছেন এবং বলেছেন সরকারের অন্যতম বিশ্বাসের জায়গা হল “ধর্ম যার যার উৎসব সবার”। আমরা মনে করি এটা সম্পূর্ণ অসত্য বক্তব্য। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হল “ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।” প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে আমরাও একমত। অপরদিকে বরকতউল্লাহ ভুলু বলেছেন, সনাতনীদের ভোটেই তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী, মুসলমানদের ভোটে নয়। এ অসত্য বক্তব্যের দ্বারা দেশের ৯২ ভাগ মুসলমানের অন্তরে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। মুসলমানরা ভোট না দিলে ৮% হিন্দুদের ভোটে বিএনপি কখনোই ক্ষমতায় আসতে পারত না। ক্ষমতাসীন দলের আরেক নেতা আমানুল্লাহ আমান কেরানীগঞ্জে হিন্দুদের প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট উদ্বোধন করতে গিয়ে হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া মোনাজাত করেছেন। তিনি ঘাট উদ্বোধনের অনুষ্ঠানটি ভিন্নভাবেও করতে পারতেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করে তিনি শিরকী কর্মকাণ্ডকে অনুমোদন করেছেন।
বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে মোবারকবাদ জানিয়ে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শালীন , মার্জিত এবং যুক্তিসঙ্গত বক্তব্য দিয়েছেন। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, নিরাপত্তা সবার, নাগরিক অধিকার সবার। প্রত্যেক ধর্মের লোকেরই স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করার অধিকার রয়েছে। সবার জন্য নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনার দল ও মুসলমান নামধারী কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিতর্কিত বক্তব্য ইতিমধ্যে জনমনে ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। সনাতনীদের ভোট কালেকশন এবং তাদেরকে খুশি করতে গিয়ে যারা বিভিন্ন ধরনের শিরকী বক্তব্য দিয়েছেন তাদেরকে সতর্ক করুন। এদের বিতর্কিত বক্তব্যের দ্বারা আপনার দল ও সরকারের ভাবমর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান অব্যাহত থাকলে জনরোষ প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে উঠবে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের বিপরীতে আমিরে খেলাফত হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন,কোন দেবদেবী স্বর্গ থেকে আসেনি। দেবদেবীরা মানুষেরই বানানো মূর্তি। নির্বাক, দুর্বল দেবদেবীরা কারো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না। এরা কোন ধরনের মঙ্গল বা অমঙ্গলের মালিক নয়। একত্ববাদের বিপরীতে পৌত্তলিকতা ধ্বংস করার জন্যই আল্লাহ তায়ালা নবীদেরকে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী সকল দেব-দেবী মিলে একটি মাছি বানাতেও সক্ষম নয়। কুরআনের এক আয়াতে আছে, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুর উপাসনা করে তারা এবং দেব-দেবীরা জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হবে।
মাওলানা মিয়াজী বলেন, কোটি কোটি দেব দেবতা থাকা সত্ত্বেও আরব দেশ ছিল অশান্তির অন্ধকারে নিমজ্জিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মূর্তি অপসারণ করেই আরব দেশ থেকে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে ইসলামের আলো জ্বালিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার নগরীতে রূপান্তরিত করেছিলেন। নবী-রাসূলদের অবদানকে অস্বীকার করে যারা দেব-দেবীকে ক্ষমতাবান মনে করে তাদের ঈমান থাকতে পারে না। বাংলাদেশের মতো ৯২ ভাগ মুসলমান দেশের রাষ্ট্রপতির মুখে এ ধরনের অসত্য ও কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক বক্তব্যে জাতি হতবাক। রাষ্ট্রপতিকে অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ধর্মের ব্যাপারে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।