বিক্ষোভের মুখে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তাবিত আইন সংসদে পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার পর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৯ নভেম্বর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সানচেজ বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নে তার প্রয়োজন আরও বিস্তৃত প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তিনি স্বীকার করেন, তার সরকার কিছু ভুল করেছে এবং সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

সানচেজের সংখ্যালঘু সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় দুটি অধ্যাদেশ সংসদে পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার পরই আগাম নির্বাচন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ স্থগিত রাখা, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ ছিল।

আবাসন সংকটের মধ্যে ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে মাদ্রিদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনাও দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে উচ্ছেদ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবাসন সংস্কারের দাবিতে স্পেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

সানচেজের নেতৃত্বাধীন বামপন্থি জোটে রয়েছে তার সোশ্যালিস্ট পার্টি ও সুমার জোট। সংসদে তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে বিভিন্ন আইন পাস করতে সরকারকে আঞ্চলিক ও বিরোধী দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়।

এদিকে জনমত জরিপে রক্ষণশীল পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে। তবে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য দলটিকে ভক্স পার্টির সমর্থন নিতে হতে পারে। আগামী নির্বাচনে সানচেজের নেতৃত্বাধীন জোট আরও বেশি সমর্থন পাবে, নাকি বিরোধী দলগুলো সরকার গঠনের সুযোগ পাবে, সেটিই এখন স্পেনের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন।

আবাসন সংকটের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ ও জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও সানচেজ সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বরের নির্বাচন তাই স্পেনের আবাসননীতি, সরকার পরিচালনা এবং সংসদীয় সমীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Home R3