ইউরোপের দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার নিয়মকানুন আগের চেয়ে কঠোর করা সত্ত্বেও থেমে নেই বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় প্রার্থনার প্রবণতা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে সামগ্রিক আবেদন ১৭ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদন উল্টো ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ) প্রকাশিত তাদের ২০২৬ সালের ‘মিড-ইয়ার রিভিউ অব দ্য লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউভুক্ত অঞ্চলগুলোতে মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন জমা পড়েছে। এটি ২০২১ সালের পর যেকোনো বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় সর্বনিম্ন। মূলত অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইইউর নজরদারি জোরদার এবং সিরিয়ার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে সামগ্রিকভাবে আবেদন কমতির দিকে রয়েছে।
তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে। বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপে আশ্রয়প্রত্যাশী শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ আগের মতোই ওপরের সারিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
ইইউ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন গ্রহণ করেছে ফ্রান্স (প্রায় ৬৯ হাজার), ইতালি (প্রায় ৬৬ হাজার), স্পেন (প্রায় ৫৫ হাজার) এবং জার্মানি (প্রায় ৫৫ হাজার)। এই চারটি দেশেই জমা পড়েছে মোট আবেদনের প্রায় ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে গ্রিসে; দেশটিতে প্রতি ৪০০ বাসিন্দার বিপরীতে একজন ব্যক্তি সুরক্ষার আবেদন করেছেন।
এদিকে আবেদন বাড়লেও বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপে অবস্থান নেওয়া দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। গত ১২ জুন থেকে কার্যকর হওয়া ইউরোপের নতুন আশ্রয় নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব দেশের আবেদন মঞ্জুরের হার ২০ শতাংশের নিচে অথবা যেগুলোকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সীমান্তেই দ্রুত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া কার্যকর হচ্ছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া মোট আবেদনের এক-তৃতীয়াংশেরও কম মঞ্জুর হয়েছে। ফলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া মাত্রই দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কঠোর ঝুঁকিতে পড়ছেন ইউরোপমুখী এই আশ্রয়প্রার্থীরা।