১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডনের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে, তবু ‘হত্যা’ বলছে না তদন্ত সংস্থা

চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন, নাকি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিলÑতিন দশক ধরে ঘুরপাক খাওয়া সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন ধোঁয়াশার সামনে দাঁড়িয়েছে মামলার তদন্ত।

একদিকে আদালতে জমা দেওয়া সিআইডির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ডনের সরাসরি সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর সংকেত ও আলামত মিলছে; অন্যদিকে সিআইডির মুখপাত্র ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। এই লুকোচুরি আর অস্পষ্টতার মাঝে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী অভিযোগ তুলেছেনÑগোটা রিমান্ড প্রক্রিয়াটি ছিল স্রেফ ‘আইওয়াশ’ বা লোক দেখানো।

পাঁচ দিনের রিমান্ডের চার দিন শেষ হওয়ার পর গত বুধবার ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে সিআইডি। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার (ডনের) জড়িত থাকার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে মূল ধোঁয়াশা। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির মুখপাত্র ছুফি উল্লাহর কাছে আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়—ডনের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ যদি পাওয়া যায়, তাহলে কি সিআইডি এখন সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দেখছে বা পিবিআইয়ের পুরোনো ‘আত্মহত্যা’র তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হওয়াÑএসব প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে তিনি তদন্ত চলমান থাকার কথা বলে এড়িয়ে যান। মামলাটি সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ ইউনিট তদন্ত করছে। ওই ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজীরকেও একই প্রশ্ন করা হলে তিনি সিআইডির মিডিয়া বিভাগের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ডনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সূত্রের বরাতে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলেও এ দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জবাব এড়িয়ে গেছেন। অর্থাৎ, ডনের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা বলা হলেও সেই সম্পৃক্ততার প্রকৃতি—তিনি ঠিক কী করেছেন, কার সঙ্গে করেছেন কিংবা সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে তার ভূমিকা কী—এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট করেনি তদন্ত সংস্থা।

Home R3