৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পর্তুগালে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ২ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ খালি

পর্তুগালে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেও দেশটির বিভিন্ন স্কুলে ২ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ এখনো খালি রয়েছে। তবে এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার মতো শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ফার্নান্দো আলেকজান্দ্রে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর লিসবনে এক অনুষ্ঠানের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আরেক দফা শিক্ষক নিয়োগের পর স্কুলগুলোতে প্রকৃত শিক্ষক সংকটের আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।

মন্ত্রী বলেন, ২ হাজারের বেশি পদ খালি থাকলেও এসব পদ পূরণের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যাবে।

শিক্ষক সংকট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে দেশটির জাতীয় শিক্ষা ফেডারেশন সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। এর জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের অতিরিক্ত কাজের জন্য ২ কোটি ইউরো পরিশোধ এবং শিক্ষকতা প্রশিক্ষণে থাকা শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

শিক্ষকদের পেশায় আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাদের শুধু প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, তাদের শিক্ষক হিসেবে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী বছর থেকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতার পরিধিও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া শুরু হবে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষক ছাড়া থাকার সময় কমবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অনেক শিক্ষককে নিয়োগের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে করতে অনেকে শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যান।

দেশটির লিসবন, সেটুবাল ও আলগারভে অঞ্চলে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে বেশি। একই এলাকাগুলোতে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার হারও তুলনামূলকভাবে কম। বিষয় দুটির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মন্ত্রী।

এই অঞ্চলগুলোতে শিক্ষকদের জন্য আবাসন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সরকার সেখানে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ যাতায়াত ভাতা চালু করেছে।

এদিকে পর্তুগালে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে গিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ব্রাজিলের শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। তবে বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার জন্য একটি বিশেষ কার্যকর ব্যবস্থা তৈরিতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।

এ বছর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে একটি বিশেষ পরীক্ষা পর্ব চালু করা হয়েছিল। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ডিজিটাল করার কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, এই বিশেষ পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কম হওয়াই প্রমাণ করে যে, তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো শেষ পর্যন্ত সমাধান করা গেছে।

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর নিয়ে সন্তুষ্ট।

সূত্র : দ্য রেসিডেন্ট

Home R3