দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জনপ্রিয় আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।
রেলমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।
রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে আন্তঃদেশীয় রেলসেবা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে রোগীদের জন্য এই রেলপথ অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক। ট্রেনটি পুনরায় চালু হলে উভয় দেশের যাত্রীদের সময় ও খরচ দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।”
তবে ট্রেনটি ঠিক কবে থেকে পুনরায় ট্র্যাকে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের পরই চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানানো হবে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সব ধরনের প্রস্তুতি ঠিক থাকলে আগামী মাস থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালু হতে পারে। তবে এর জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ছাড়পত্র প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকা-কলকাতা রুটের ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ এবং খুলনা-কলকাতা রুটের ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’-এর চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে ঢাকা ও নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী ‘মিতালী এক্সপ্রেস’-এর কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই রেল সংযোগ সচল হওয়ার সম্ভাবনায় দুই দেশের সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।