আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঈমান-আকিদা ও বিশ্বাস সংরক্ষণে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং ইসলামবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি।দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈমান-আকীদা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় চেতনাকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিভিন্ন নামে ও মতাদর্শে পরিচালিত ভ্রান্ত ও ইসলামবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ধর্মপ্রাণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় উলামা মাশায়েখ কনভেনশনে দেশের শীর্ষ আলেমগণ এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর যৌথ পরিচালনায় এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।
কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মধুপুর পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান ও মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী।
প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা পেশ করেন, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, বিশেষ আলোচক হিসেবে আলোচনা পেশ করেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান।
আরো বক্তব্য রাখেন,মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব,মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী,মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী,মাওলানা মাহবুবুল্লাহ কাসেমী,মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী,মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী,মুফতি আবু সাঈদ নোমান,মুফতি জাবের কাসেমী,মুফতি মোহাম্মদ আলী আফতাবনগর, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী,মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান,মুফতি বশির উল্লাহ, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ,মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ,মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী,মাওলানা রশিদ বিন ওয়াক্কাস, মুফতি ওয়াহিদুল আলম উত্তরা,মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজাউল করিম আবরার,মুফতি শামসুদ্দীন কাসেমী,মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী,মাওলানা নোমান আহমদ,মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মুফতি আল আমিন কাসেমী,মাওলানা নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা হিফজুর রহমান, সাব্বির মাযহারী প্রমুখ।
হেফাজত মহাসচিব বলেন, হিজবুত তাওহীদ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সংগঠনটির কার্যক্রম ও মতাদর্শ দেশের শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে সংগঠনটির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।
মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমান হানাফী মাযহাবের অনুসারী। এদেশের মানুষ সালাফী শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চাই না। প্রয়োজনে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হোক।
ড. সরোয়ার বলেন, সংসদে পাস হওয়া ট্রানজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে কোনো বিতর্কিত আদর্শ বা মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রেখে সমাজে নৈতিকতা, শালীনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা-বিশ্বাস সংরক্ষণে জাতীয়ভাবে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
আজকের এই ঐতিহাসিক জাতীয় উলামা মশায়েখ কনভেনশন থেকে সরকারের নিকট ৭ দফা দাবি :
১। মহান আল্লাহ, রাসূল সা., পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।
২। কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোন আইন পাস না করা।
৩। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৪। চরম দ্বীন বিকৃতিকারী কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।
৫। জাতীয় শিক্ষা সিলেবাসে ধর্মশিক্ষা বইয়ে নবী ও সাহাবীদের জীবনচরিত বিষয়ে লেখা সংযুক্ত করা।
৬। জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া শ্রম আইন থেকে ট্রান্সজেন্ডারের শব্দগুলো বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগষ্ঠির চিন্তা চেতনার আলোকে দ্বি-লিঙ্গ নীতি ঘোষণা করা।
৭। জাতীয় পর্যায়ে মুসলিম পারিবারিক ও পার্সোনাল সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে স্বতন্ত্র শরিয়াহ ব্যাঞ্চ গঠন করা।