১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইউরোপ

পোর্তো-লিসবন উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণ শুরু হচ্ছে; মিলেছে পরিবেশগত ছাড়পত্র

পোর্তো-লিসবন উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণ শুরু হচ্ছে; মিলেছে পরিবেশগত ছাড়পত্র

পর্তুগালের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পোর্তো-লিসবন উচ্চগতির রেলপথ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর পথে আর বড় কোনো বাধা নেই। প্রকল্পের প্রথম ধাপ পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ায় পোর্তোর কাম্পানহা স্টেশন থেকে অ্যাভেইরো জেলার ওইয়া পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের পথ খুলে গেছে।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেসো’ জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে কাজ শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও প্রকল্পের নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে জটিলতার কারণে তা পিছিয়ে যায়।

প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করবে ‘আভান নর্তে’ কনসোর্টিয়াম। মোতা-এঙ্গিলের নেতৃত্বে গঠিত এই কনসোর্টিয়ামে পর্তুগালের আরও পাঁচটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

নকশা পরিবর্তন নিয়ে জটিলতা :

প্রথম ধাপের নকশায় বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছিল কনসোর্টিয়ামটি। এর মধ্যে ডউরো নদীর ওপর একটি সেতুর পরিবর্তে দুটি সেতু নির্মাণ এবং ভিলা নোভা দে গাইয়ার স্টেশনকে ভূগর্ভস্থ অবস্থান থেকে ওপরে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও ছিল।

তবে পর্তুগিজ পরিবেশ সংস্থা এপিএ গত ডিসেম্বরে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরে কনসোর্টিয়ামটি নকশা সংশোধন করে আগের অনুমোদিত পরিকল্পনার কাছাকাছি নিয়ে আসে।

সংশোধিত পরিকল্পনায় ডউরো নদীর ওপর একটি যৌথ সড়ক ও রেল সেতু এবং গাইয়ার ভূগর্ভস্থ স্টেশন রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। এরপরই এপিএ নির্মাণকাজ শুরুর পরিবেশগত অনুমোদন দেয়।

এপিএ জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনাটি আগে অনুমোদিত রুট ও পরিবেশগত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে নির্মাণের সময় পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো, ক্ষতিপূরণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত সব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাড়ছে সড়ক সংযোগ :

প্রকল্পের নকশায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পুনঃস্থাপিত সড়ক সংযোগের সংখ্যা ৭টি থেকে বাড়িয়ে ৪১টি করা হয়েছে।

এর ফলে রেলপথ নির্মাণের কারণে স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ যাতে ব্যাহত না হয় এবং বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা কমে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে রেলপথ যাওয়ায় প্রকল্পে বেশ কয়েকটি দীর্ঘ টানেলও রাখা হয়েছে। ভূ-প্রযুক্তিগত ও নির্মাণগত সীমাবদ্ধতার কারণে নেগ্রেলোস ও গাইয়া টানেলের নকশায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এপিএর দাবি, এসব পরিবর্তনের ফলে টানেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা ও নিরাপত্তা বাড়বে এবং পরিবেশগত প্রভাবও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

২০৩০ সালে শেষ হওয়ার লক্ষ্য :

‘আভান নর্তে’র অপারেশন ডিরেক্টর আলভারো ফনসেকা গত ২১ মে জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের আগস্টে প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সালের জুলাই।

মোতা-এঙ্গিল ছাড়াও টেক্সেইরা দুয়ার্তে, ক্যাসাইস, আলভেস রিবিরো, কন্দুরিল এবং গ্যাব্রিয়েল এ.এস. কৌতো এই কনসোর্টিয়ামের অংশ। পোর্তো-ওইয়া অংশের পরিকল্পনা, নকশা, নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও রেলপথ পরিচালনার দায়িত্বও তাদের ওপর থাকবে।

পরের ধাপের দরপত্রেও প্রতিযোগিতা :

এদিকে পোর্তো-লিসবন হাই-স্পিড রেলপথের পরবর্তী অংশের কাজ নিয়েও প্রতিযোগিতা চলছে। ওইয়া থেকে কোইমব্রার সউরে পর্যন্ত অংশের দরপত্রে ‘আভান নর্তে’র পাশাপাশি স্পেনের সাসির এবং পর্তুগালের ডিএসটি ও আলবার্তো কৌতো আলভেসের সমন্বয়ে গঠিত আরেকটি কনসোর্টিয়াম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

প্রায় ২৪০ কোটি ইউরো ব্যয়ের এই অংশে ৬০ কিলোমিটার রেলপথ, ২৫টি সেতু ও ভায়াডাক্ট, প্রচলিত রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে ১৮টি সংযোগ এবং একটি টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অংশের চূড়ান্ত দরপত্রের সিদ্ধান্ত আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে আসতে পারে।

পোর্তো-লিসবন হাই-স্পিড রেলপথ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্তুগালের দুই প্রধান শহরের মধ্যে দ্রুত ও আধুনিক রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। প্রকল্পটির প্রথম ধাপের নির্মাণ শুরু হওয়াকে তাই দেশটির রেল অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : পর্তুগাল রেসিডেন্ট

Home R3