উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। আগামী ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।
সফরকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। বাংলাদেশে তার সফর বাস্তবায়ন কমিটির সিনিয়র সদস্য এবং খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা পরিষদের মহাসচিব মাওলানা নাসীরুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সফরের অংশ হিসেবে আল্লামা নোমানী রাজধানীর নিউমালিবাগ মাদ্রাসা, বসুন্ধরা মাদ্রাসা এবং জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় আয়োজনে অংশ নেবেন। আগামী ৭ আগস্ট (শুক্রবার) তিনি ঢাকা ত্যাগ করে ভারতের দেওবন্দে ফিরে যাবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট (বুধবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়িস্থ কেআইবি কমপ্লেক্সে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইলমি সেমিনার’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। সেমিনারের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিজি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’।
উল্লেখ্য, বিশিষ্ট মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল মতিন রচিত জামে তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’ (প্রথম থেকে সপ্তদশ খণ্ড) প্রকাশ উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
একই দিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদে ‘আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠন’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন আল্লামা নোমানী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মাদ্রাসাটির মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-ওলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
মাওলানা নাসীরুল্লাহ বলেন, দেওবন্দের মুহতামিমের এই সফর দেশের দ্বীনি অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফরকে ঘিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং তার বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস। ইসলামি শিক্ষা, হাদিসচর্চা, দাওয়াহ ও ইসলাহি কার্যক্রমে তার দীর্ঘ অবদানের কারণে তিনি ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাদৃত। তার বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের কওমি অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।