২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মশার বিরুদ্ধে লড়তে ড্রোন ব্যবহার করছে শ্রীলঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সামরিক ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে। ছাদের ওপর জমে থাকা পানি ও মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে এ প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে ডেঙ্গুতে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি সংক্রমণ শুধু জুলাই মাসেই শনাক্ত হয়েছে।

ডেঙ্গু জ্বর মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি মূলত ক্রান্তীয় অঞ্চলের একটি সাধারণ রোগ। তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে রোগবাহী মশা এখন ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলসহ নতুন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২০০০ সালে প্রায় ৫ লাখ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪৪ লাখে পৌঁছেছে।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ডিসেম্বরে দ্বীপটিতে আঘাত হানা একটি ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ নতুন করে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি করেছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বাড়ি, স্কুল ও নির্মাণস্থলের ছাদ স্ক্যান করতে সেনাবাহিনীকে ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করায় চার হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

দেশজুড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও রাজধানী কলম্বোসহ শহরাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, রোগীর সংখ্যা ও রোগের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছেন। তবে ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স