২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাটক্ষেতে পুশ-ইনের চেষ্টা ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর; নজরদারিতে স্থানীয় জনগণ

মেহেরপুর জেলার তিন দিকজুড়ে বিস্তৃত ৮৫ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত। এই বিশাল সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অন্যদিকে, সুযোগ পেলেই নানা কৌশলে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার এপার ঘেঁষে ভারতীয়দের কিছু কৃষিজমি রয়েছে। নো ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি অবস্থিত এসব জমিই পুশ-ইনের ক্ষেত্রে বিএসএফের কৌশলগত রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবির। তাদের ভাষ্য, সীমান্তের ফসলের মাঠ, বিশেষ করে উঁচু পাটক্ষেতের আড়ালকে কাজে লাগিয়ে মানুষজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অস্ত্রের মুখে মানুষজনকে কাঁটাতারের বেড়ার প্রবেশমুখ খুলে নো ম্যানস ল্যান্ড-সংলগ্ন উঁচু ও ঘন পাটক্ষেতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পুশ-ইন হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

বিএসএফের পুশ-ইনের এমনই একটি চিত্র ধরা পড়েছে মেহেরপুরের বুড়িপোতা খালপাড়া সীমান্তে বাংলাভিশনের ড্রোন ক্যামেরায়। আকাশ থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, কাঁটাতারের ওপার থেকে এসে একটি ছোট খাল পার হয়ে তিন ব্যক্তি পাটক্ষেতের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের শূন্যরেখা বা জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় সীমান্তবাসীদের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং প্রায় প্রতিদিনই এমন চিত্র দেখা যায়। দিনের আলোয় কৌশলে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে লোকজনকে এনে জড়ো করে রাখা হয়। পরে রাতের আঁধারে সুবিধাজনক সময়ে তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পুশ-ইন করা হয়।

সীমান্তজুড়ে ঘন পাটক্ষেত থাকায় এসব অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত ও আটক করতে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বিজিবি সদস্যদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল গড়াতেই মেহেরপুরের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের টহল গাড়ি এবং সৈন্যভর্তি বড় বড় পিকআপ ভ্যানকে সীমান্ত-সংলগ্ন ভারতীয় গ্রামগুলোতে চলাচল করতে দেখা যায়। এসব গাড়িতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজনকে এনে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—রাতের অন্ধকারে সুযোগ বুঝে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া। এ সময় সীমান্তের সার্চলাইটও বন্ধ রাখা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

তবে সম্ভাব্য পুশ-ইন মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। দিনের তুলনায় রাতে ভারতীয় সীমান্তের দিকে বেশি নজর রেখে লাঠি ও টর্চ হাতে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় গ্রামবাসী এবং বিজিবি সদস্যরা।

ভারত থেকে যেকোনো সম্ভাব্য অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে মেহেরপুর সীমান্তে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম সর্বোচ্চ জোরদার করেছে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। পাশাপাশি সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট ও গোপন বাঙ্কার। সন্দেহজনক যেকোনো চলাচলের ওপর রাখা হচ্ছে সার্বক্ষণিক তীক্ষ্ণ নজরদারি।