৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাদক নির্মূলে আফগানিস্তানের সাফল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা

মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের কারণে আফগানিস্তানকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটিতে মাদক নির্মূলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এ খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে।

সরকার মাদকদ্রব্যের চাষ, উৎপাদন ও বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়। এর পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। অভিযানে মাদক চাষের জমি ধ্বংস, উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দুই দশকের মার্কিন দখলদারিত্বের সময় আফগানিস্তানে আফিম ও অন্যান্য মাদক উৎপাদন ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে। পপি চাষ দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাদক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। একই সময়ে মাদকাসক্তির হারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়, যা সমাজে গভীর সংকট তৈরি করে।

বর্তমান সরকারের কঠোর পদক্ষেপের ফলে গত কয়েক বছরে মাদক উৎপাদন ও চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে। অভিযানের অংশ হিসেবে হাজার হাজার উৎপাদনকেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আফগানিস্তানের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয়। অনেক দেশের তুলনায় কম সময়ে ফল পাওয়া এ অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেসব দেশ মাদক সমস্যায় জর্জরিত, তাদের জন্য আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা একটি কার্যকর মডেল হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান ক্রমেই বাড়ছে।