৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পর্তুগালের লিসবনে হিজাব পরায় বৈষম্যের শিকার মুসলিম নারী; বাসে উঠতে বাধা

রাজধানী লিসবনে গণপরিবহনে ওঠাকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম নারী বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হিজাব ও মুখে মাস্ক পরিহিত থাকার কারণে তাকে বাসে উঠতে বাধা দেন চালক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পরিবহন সংস্থা ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শনিবার (২ মে) পর্তুগালের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ভুক্তভোগী ২৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারী, যিনি প্রায় ছয় বছর ধরে পর্তুগালে বসবাস করছেন। প্রতিদিনের মতো সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিনি একটি বাসে উঠতে গেলে এই ঘটনার মুখোমুখি হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাসচালক তাকে মাস্ক খুলে ফেলতে নির্দেশ দেন। তিনি পরিচয় নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে মাস্ক নামিয়ে মুখ দেখান এবং পরে আবার তা পরেন। কিন্তু চালক তাতে সন্তুষ্ট হননি; বরং সম্পূর্ণভাবে মাস্ক খুলে ফেলতে বলেন এবং তা না করলে বাস না চালানোর হুমকি দেন।

ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার কাছে বৈষম্যের অভিযোগ জানান। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা নিজেদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির কথাও উল্লেখ করেছে।

এদিকে ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একটি রাজনৈতিক দল লিসবনের মেয়রের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযোগ গ্রহণকারী পুলিশ সদস্য তার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ইঙ্গিত দেন যে তিনি ‘বুরকা’ পরেছিলেন—যা জনসমক্ষে নিষিদ্ধ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য; পর্তুগালে জনসমক্ষে বুরকা নিষিদ্ধ করার একটি আইন সংসদে পাস হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি।

ঘটনাটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বৈষম্যবিরোধী অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।