২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শুরু হলো পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

বিশ্ব মুসলিমের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে আজ। লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির হৃদয়ে এখন একটাই ধ্বনি “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”।

পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আগত আল্লাহর মেহমানরা ইহরামের সাদা পোশাকে একত্রিত হয়েছেন পবিত্র ভূমিতে। কাবাঘরকে ঘিরে অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা আর মহান রবের সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ এই ইবাদতের মহাযাত্রা।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের তাঁবুনগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় নিয়ে যেতে মাঠপর্যায়ের এবং সব ধরনের কার্যক্রমের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, হজ পালনের উদ্দেশ্যে আজ ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ (তারবিয়ার দিন) পালনের জন্য হজযাত্রীরা মক্কার নিজ নিজ বাসস্থান থেকে মিনায় যেতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ বছর পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে সৌদি আরবের আরও কয়েক লাখ হজযাত্রী যোগ দেবেন।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত অনুসরণ করে হজযাত্রীরা তালবিয়া পাঠ করতে করতে ও আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করতে করতে ভোর থেকে তাঁবুর নগরী মিনার দিকে রওনা হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি হজ মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের নিজস্ব ক্যাম্পে যাতায়াতব্যবস্থা সাজাতে এবং পবিত্র স্থানগুলোতে দেওয়া সেবার মান তদারক করতে সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করেছে। মন্ত্রণালয়ের এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হজযাত্রীদের থাকার জায়গা ও আতিথেয়তা কেন্দ্র থেকে মিনায় যাওয়ার বিষয়টি দেখভাল করা; তাঁবুতে তাঁদের সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করা; নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা দেওয়া এবং ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হজযাত্রীদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করা।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয় মিনার ভেতরে হজযাত্রীদের থাকা, খাওয়া ও পরিবহনসেবার সার্বিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে যেকোনো সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য মাঠপর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এসব প্রচেষ্টা পবিত্র স্থানগুলোতে হজযাত্রীদের অবস্থানের শুরুর দিনগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে।

জিলকদ মাসের শুরু থেকে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে ৮৩ হাজারের বেশি পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ের সফর সম্পন্ন করেছে। হাজিদের বাসস্থান, আতিথেয়তা কেন্দ্র, তাঁবু এবং সব ধরনের সেবাকেন্দ্র এই পরিদর্শনের আওতাভুক্ত থাকছে। এতে তাদের কাজের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়, নির্ধারিত নিয়মগুলো মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা যায় এবং যেকোনো সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে হজযাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতার মান উন্নত করা যায়।