২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণ-রুপার দাম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের শুরুতেই টানা তৃতীয় সেশনে দরপতন হয়ে এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং ফেডারেল রিজার্ভ-এর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে এই দরপতন দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৩.৫৭ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারে স্বর্ণের দামও ১.১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫৫.৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে কিটকো মেটালস-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট জিম ওয়াইকফ বলেন, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সভার আগে বিনিয়োগকারীরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ইল্ড বৃদ্ধি এবং তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জানা গেছে, মার্কিন সময় বুধবার দুপুর ২টায় ফেডারেল রিজার্ভ তাদের পরবর্তী মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে। যদিও সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ফেড প্রধান জেরোম পাওয়েল ভবিষ্যৎ নীতিগত ইঙ্গিত কী দেন, সেদিকে নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

এদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের চাহিদা ২ শতাংশ বেড়েছে। অলংকারের চাহিদা কমলেও বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের বার ও কয়েন কেনার প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও স্বর্ণের মজুত বাড়িয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রুপার দাম ১.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭১.৯৫ ডলার, প্ল্যাটিনাম ২.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০০.১১ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৩৬.৮৬ ডলারে নেমেছে।

দেশীয় বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।