৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ : জন এফ ড্যানিলোভিচ

২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন, চীনের অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক—সব মিলিয়ে কৌশলগত ভারসাম্যের পথে এগোচ্ছে ঢাকা।

ঢাকার সাবেক মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ইতিহাস ও ভূগোলের কারণে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হলেও বর্তমান বাস্তবতায় ভারতের ‘আধিপত্যের’ অবসান ঘটেছে। তার মতে, বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্ট’ নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক আবেদন দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি করেছে। পাশাপাশি ভারতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচার ও মিসইনফরমেশন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর প্রসঙ্গে ড্যানিলোভিচ বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। চীন বড় বাজার ও বিনিয়োগের উৎস হলেও দক্ষ কূটনীতির মাধ্যমে এ সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের কারণ হবে না।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় দীর্ঘমেয়াদে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে এককভাবে সামলানো বাংলাদেশের পক্ষে কঠিন। তাই রাখাইনে পরিস্থিতির উন্নয়ন ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে যোগাযোগ বাড়ানো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, সার্কের স্থবিরতার কারণে বাংলাদেশ আসিয়ান ও ডি-৮ জোটের দিকে নজর দিচ্ছে। আসিয়ানের অংশীদার হওয়ার প্রচেষ্টা এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে তিনি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক প্রসঙ্গে ড্যানিলোভিচ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।

সূত্র: দ্য ডেল্টাগ্রাম