১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রবাস

বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী থাইল্যান্ড, দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তাগিদ

বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহী থাইল্যান্ড, দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তাগিদ

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভাব্য ও কার্যকর পথ উন্মোচনে উভয় দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে থাইল্যান্ডের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অভিবাসন ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও কর্মীদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কর্মী নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে। এছাড়া স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি কর্মীদের কল্যাণ, ন্যায্য মজুরি, মানসম্মত আবাসন ও চিকিৎসা বীমার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বোয়েসেল’-এর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে, সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ (কায়িক শ্রম) কাজের পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ (পেশাদার) পদের জন্যও বাংলাদেশে উপযুক্ত ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে।

থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, বর্তমানে থাইল্যান্ড কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটি থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ থাকায় থাইল্যান্ডের নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে তীব্র কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট কাটাতে পঞ্চম দেশ হিসেবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে গভীরভাবে আগ্রহী।

তবে বৈঠকে থাই প্রতিনিধিদল কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে—ভিসার মেয়াদ শেষের পর অবৈধভাবে অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের ঝুঁকি।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী থাই প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে আশ্বস্ত করেন, চিহ্নিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করে খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, বৈঠকে থাই প্রতিনিধিদলের পক্ষে শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক ও ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।

Home R3