৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্যারিসে ট্রাকের ভেতর থেকে শিশুসহ ৫৮ অভিবাসী উদ্ধার

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি ট্রাকের ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায় অন্তত ৫৮ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে। এর মাত্র এক দিন আগে আরেকটি ট্রাকের ভেতর থেকে ১৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

২৬ আগস্ট ভোরে প্যারিসের কেন্দ্রীয় ১৮তম অ্যারোঁদিসমঁ এলাকায় একটি সরু সড়কের শেষ প্রান্তে পার্ক করে রাখা ট্রাকটি পরিদর্শনের সময় অভিবাসীদের সন্ধান পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে জরুরি বিভাগের কর্মীদের দেখা গেলেও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাকটির চালকের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পেছনে অভিবাসীরা অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে চালক জানতেন কি না, তাও এখনো পরিষ্কার নয়।

প্যারিসের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। সংগঠিত অপরাধচক্রের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ফ্রান্সে প্রবেশ, চলাচল বা অবস্থানে সহায়তা করার অভিযোগে এই তদন্ত শুরু হয়।

অনিয়মিত অভিবাসীদের আটক :

তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবৈধ অভিবাসী পাচারবিরোধী দপ্তর ওএলটিআইএমের প্যারিস শাখাকে। ট্রাকটি কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যে অভিবাসীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে সংস্থাটি।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৫৮ জনের মধ্যে অপ্রকাশিত সংখ্যক শিশু ছিল।

উদ্ধার হওয়া কয়েকজন অভিবাসী ফ্রান্সে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন বলে পরে শনাক্ত করা হয়। তাদের প্রশাসনিক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকজন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হন।

মোট ৩২ জনের বৈধভাবে ফ্রান্সে অবস্থানের অনুমতি ছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

কয়েক ঘণ্টা আগেও একই ধরনের ঘটনা :

এর মাত্র এক দিন আগে, ২৫ আগস্ট প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইভলিন এলাকায় একটি মহাসড়কে রেফ্রিজারেটেড ট্রাকের ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায় ১৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই দলে সাতজন শিশু ছিল। তাদের সবাই ইরান অথবা ইরাক থেকে এসেছিলেন বলেও জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অভিবাসীরা ট্রাকের চালকের অজান্তে গাড়িতে উঠেছিলেন। লুকিয়ে অন্যত্র যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা ট্রাকে উঠেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাকের ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি জরুরি সেবা সংস্থাকে ফোন করে সেখানে গাদাগাদি করে থাকা এবং জীবনঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা জানান। এরপর তাদের উদ্ধার করা হয়।

রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে লুকিয়ে ভ্রমণ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসব ট্রাকের ভেতরের তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। ফলে হাইপোথার্মিয়া বা শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া, অচেতন হয়ে পড়া এবং পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

২০১৯ সালে লন্ডনের বাইরে একটি রেফ্রিজারেটেড ট্রাক থেকে ৩৯ জন ভিয়েতনামি অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঠান্ডা এবং পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

ফ্রান্সে বাড়ছে ট্রাকে লুকিয়ে যাত্রা :

সাম্প্রতিক এসব ঘটনা ফ্রান্সে ট্রাকে লুকিয়ে অভিবাসীদের যাত্রার একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। গত ১২ মাসে এ ধরনের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত নভেম্বরে নরম্যান্ডির রুয়াঁ শহরে একটি রেফ্রিজারেটেড ট্রাকের ভেতর থেকে চার ইরাকি নাগরিককে উদ্ধারের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর এক মাস আগে উত্তর ফ্রান্সে একই ধরনের একটি ট্রাক থেকে ১১ জন ইরিত্রীয় অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

গত গ্রীষ্মে উত্তরাঞ্চলীয় শহর কালে শহরের একটি বিশ্রামস্থল থেকেও ১৫ জন শরণার্থীকে হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে যাওয়ার আশায় অভিবাসীরা সাধারণত কালে থেকে যাত্রা করার চেষ্টা করেন।

সূত্র : ইনফোমিগ্রেন্ট

Home R3