নির্বাচনের আগে যেভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন, ঠিক একইভাবে দেশ গঠনের কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের আগে দেওয়া কথা রাখার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে আমি হুজুরকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি আসব। আল্লাহর রহমতে আমরা সরকার গঠন করেছি। আজ আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন যে আমি এসে আমার প্রিয় হুজুরের সাক্ষাৎ পেয়েছি।”
বিগত সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থ-সম্পদ অবাধে লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ করার কারণে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যায় দেশের মানুষকে খেসারত দিতে হচ্ছে। তবে আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে গ্যাস সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে মানুষ শান্তিতে খাবে-পরবে এবং নিজ নিজ ধর্ম নির্ভিঘ্নে পালন করবে। দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।”
আলেম-ওলামাদের সরকারের অন্যতম সহযোগী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সরাসরি সরকারে না থাকলেও সরকারের সহযোগী হিসেবে আছেন। দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়, আলেমদেরও সঠিক পথে মানুষ পরিচালনা করতে হবে।”
এ সময় তিনি শিক্ষা, চিকিৎসা, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা সহ সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষের ভালোবাসার জবাবে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। পরে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।