১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কোরবানিতে যে চার ধরনের পশু নিষিদ্ধ

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এই দিনে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। তবে কোরবানি শুধু পশু জবাই করার নাম নয়; ইসলামি শরিয়তে এর জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট বিধান ও শর্ত। বিশেষ করে কোরবানির পশু সুস্থ, ত্রুটিমুক্ত ও নির্ধারিত মানের হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এমন কিছু ত্রুটিযুক্ত পশুর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো দিয়ে কোরবানি আদায় সহিহ হয় না।

সাহাবি বারা ইবনে আজিব (রা.) বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন চার ধরনের পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না। সেগুলো হলো

যে পশুর এক চোখ স্পষ্টভাবে অন্ধ, যে পশু মারাত্মক রোগাক্রান্ত, যে পশু স্পষ্ট খোঁড়া বা পঙ্গু, যে পশু এত বেশি দুর্বল ও শীর্ণ যে তার হাড়ে মজ্জা নেই। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৯১৯)

এছাড়া সাহাবি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, মুহাম্মদ (সা.) কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এমন পশু কোরবানি করতে নিষেধ করেছেন, যার কানের অগ্রভাগ বা পশ্চাদভাগ কাটা, কান ফাটা কিংবা কানে ছিদ্র রয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ: ২/৩৮৮)

আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন, শিং ভাঙা বা কান কাটা পশু দিয়েও কোরবানি করতে নিষেধ করা হয়েছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৭)

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোরবানির পশু হতে হবে সুস্থ, সবল ও দোষত্রুটিমুক্ত। তাই কোরবানির পশু কেনার সময় ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শরিয়তসম্মত পশু নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।