কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলন’-এ প্রেরিত এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারায় ধর্মমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে এই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।
লিখিত বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও সর্বশেষ নবী। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। এটি ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা এবং প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের ঈমানের অপরিহার্য ভিত্তি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আজকের এই সম্মেলনের চেতনা কেবল উলামায়ে কেরামের নয়, বরং প্রতিটি তাওহীদী মুসলমানের ঈমানি চেতনা। আকিদা-ই-খতমে নবুওয়তের সাথে আমি পূর্ণ একমত পোষণ করছি। সম্মেলন থেকে উলামায়ে মাশায়েখের পক্ষ হতে সরকারের কাছে যেসকল যৌক্তিক ও ঈমানি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে আমি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন এবং উলামায়ে কেরামের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আলেমদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ ঈমানি দাবিগুলো বিশেষ বিবেচনায় নেবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারার ব্যাখ্যায় তিনি জানান, তীব্র ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকের পরামর্শে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি; তবে অন্তরের আকুলতা থেকেই নিজের বার্তা প্রেরণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই ঐতিহাসিক আয়োজনের জন্য আয়োজকদের আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।