২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক

‘এই স্কুলে মুসলিমদের জায়গা নেই’: ৩০ শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিলেন কেরালার প্রধান শিক্ষিকা

‘এই স্কুলে মুসলিমদের জায়গা নেই’: ৩০ শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিলেন কেরালার প্রধান শিক্ষিকা

ভারতের কেরালা রাজ্যের কোল্লাম জেলায় একটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রায় ৩০ জন মুসলিম শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা।

ঘটনাটি ঘটেছে সাস্তামকোট্টা গ্রামের ‘ড. সি.টি. ইপেন মেমোরিয়াল আরএইচএস স্কুল’-এ। ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, ভর্তি হতে আসা মুসলিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান শিক্ষিকা বৈষম্যমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, তিনি সরাসরি বলেন, “এই স্কুলে মুসলিমদের কোনো জায়গা নেই।” এছাড়া ধর্মীয় পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের ভর্তি না নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষাকর্মীরা দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাককুভাল্লির একটি দারসে অধ্যয়নরত প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ওই স্কুলে ভর্তি হতে গেলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগকারীরা জানান, স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবক-শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিরা বারবার অনুরোধ করলেও প্রধান শিক্ষিকা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।

এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পরিচালিত এই স্কুলে বর্তমানে মাত্র ৬৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে হাইস্কুল বিভাগে মাত্র একজন মুসলিম শিক্ষার্থী রয়েছে।

শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিক্ষকরা যেখানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির চেষ্টা করছেন, সেখানে প্রধান শিক্ষিকার এমন আচরণে তারাও ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন।

পিটিএর সহ-সভাপতি বলেন, “মূল সমস্যা ছিল শিক্ষার্থীরা মুসলিম—এমনকি তাদের পোশাককেও ইস্যু বানানো হয়েছে।” কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষিকা এর আগেও এ ধরনের আচরণ করেছেন।

এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষিতে কেরালার শিক্ষামন্ত্রী এন. শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “শিক্ষার অধিকার থেকে কোনো শিশুকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই।”

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটির তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে অনুদান বন্ধ, সাময়িক বরখাস্ত বা স্কুলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ বা বৈষম্যের প্রমাণ মিললে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগেও কেরালার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্কের ঘটনা সামনে এসেছে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Home R3