বিজেপি সাংসদ ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে একাধিক পোস্ট দিয়ে নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন করা জেন জি শিক্ষার্থীদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তার এসব মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের ভিডিওকে তিনি “বমি আসার মতো” ও “অশালীন” বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, “এদের জন্ম দিচ্ছে আর বড় করছে কারা?” আন্দোলনে অংশ নেওয়া একদল তরুণীকে তিনি “জেনারেশন গাটার” বলেও আখ্যা দেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) মুসলিম মিররসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
কঙ্গনা দাবি করেন, ওই তরুণীরা “এতটাই কুৎসিত ও নষ্ট” যে তারা “গৃহিণী হওয়ারও যোগ্য নন।” এর বিপরীতে তিনি বলেন, সত্যিকারের স্বাধীন নারীরা নিজেদের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিজেরাই নেন।
পরে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেও নিজের মন্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন কঙ্গনা। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনকারীদের দেখে আদৌ শিক্ষার্থী বলে মনে হয় কি না।
উল্লেখ্য, ৩৬ দিন ধরে যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে চলা নিট আন্দোলন গত ২৫ জুলাই শেষ হয়। আন্দোলনকারীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সরকার মেনে নেয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও ছিল।
কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা। ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, জেন জি প্রজন্ম দেশের জন্য কঙ্গনার চেয়ে অনেক বেশি অবদান রেখেছে। এমনকি তার নিজের দলও তাকে গুরুত্ব দেয় না।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি বলেন, জেন জি প্রজন্মই কঙ্গনার মন্তব্যের জবাব দেবে। কংগ্রেস নেতা রেণুকা চৌধুরী এ মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করে বলেন, যাদের খুশি করতে কঙ্গনা চান, তাদের কাছ থেকেই তিনি এমন আচরণ শিখছেন।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব কঙ্গনার বক্তব্যকে “সংবেদনহীন” বলে মন্তব্য করেন। আর এআইএমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেন, আন্দোলন ছিল সাংবিধানিক অধিকার। তাই কঙ্গনার উচিত এ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়া।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কঙ্গনার সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই তার আগের বিভিন্ন আন্দোলন ও জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান মন্তব্যের দ্বিমুখী অবস্থানের তুলনা টেনে তাকে ভণ্ডামির অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। কেউ কেউ তার মন্তব্যকে “চরম বিব্রতকর” বলেও আখ্যা দেন। সব মিলিয়ে, এই ঘটনার মাধ্যমে মান্ডির বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত আবারও রাজনৈতিক ও প্রজন্মগত বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
সূত্র : মুসলিম মিরর