১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাঁধে বহনযোগ্য অস্ত্র দিয়েই  মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করলো ইরান

ইরানে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কাঁধে বহনযোগ্য স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা ‘ম্যানপ্যাড’-এর আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে গত মাসে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি সম্ভবত উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা লক্ষ্যভেদ করা হয়। যদিও ঘটনাটি এখনও পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ের তদন্তাধীন রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরান উন্নত সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে আধুনিক রাডার ও বিমান শনাক্তকরণ প্রযুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, শত্রুপক্ষের কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। সামরিক পরিভাষায় এ ধরনের অস্ত্র ‘ম্যানপ্যাড’ নামে পরিচিত, যা সহজে বহনযোগ্য এবং নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নরত বিমান লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা যায়।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্য নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। তাদের উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালায়। পরবর্তীতে দুজনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়, যদিও একজনকে খুঁজে পেতে উল্লেখযোগ্য সময় লেগেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান সরাসরি শত্রুপক্ষের আঘাতে ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফলে এ ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘটনার প্রভাব ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ

Home R3