১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ

অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষকদের নিজেদের প্রাপ্য অবসর সুবিধার টাকা তুলতে ঘুষ দেওয়া বা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহানো জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষক সমাজ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন। সেই শিক্ষকদেরই যদি ঘুষ দিয়ে নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়, জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতাই প্রকাশ করে।’

তিনি জানান, আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ চার বছর পর (২০২২ সালের পর) সরকারি দুটি ফান্ডে তাদের জমানো টাকার একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন। এই দুটি তহবিল হলো—‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অর্থ পাওয়ার মধ্য দিয়ে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।

শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তাঁর চালু করা ‘শিক্ষা উপবৃত্তি এবং নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মডেল’ হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি মরহুমা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

অবসরকালীন অর্থ উত্তোলনে অতীতে শিক্ষকদের ভোগান্তি ও ঘুষ সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।’ তবে বর্তমান সরকার অনলাইনের মাধ্যমে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সহজ ছিল না জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত উল্লেখিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।’

তিনি অভিযোগ করেন, জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিল থেকে অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে এই দুটি তহবিলকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ সহজে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

Home R3