২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজে উত্তেজনা; বিশ্ববাজারে আবারও  বেড়েছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। হরমুজ প্রণালি-তে পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় এ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ ডলারের বেশি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম সংস্থা ইউকেএমটিও-সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকালে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।

এর আগে থেকেই জাহাজ চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে ইরান। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ এবং পাল্টা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণা একতরফা হওয়ায় ইসরায়েল বা ইরানের চূড়ান্ত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইউরোপেও জ্বালানি সংকটের শঙ্কা বাড়ছে। ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ তেল সরবরাহ পুনরায় চালুর কথা বললেও রুশ সূত্রগুলো ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। জানা গেছে, কাজাখস্তান হয়ে জার্মানিতে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া।

জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থাগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুদ কমে যাওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাড়তি উদ্যোগ নিচ্ছে।