দীর্ঘদিন ধরে রুপালি পর্দার বাইরে থাকা ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি এবার অভিনয় ছাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। জীবনের বাকি সময়টা বৈষয়িক ব্যস্ততা ভুলে ধর্মকর্ম ও আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে চান এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান জীবনদর্শন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পপি।
জীবনের নতুন অধ্যায় ও মানসিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। আল্লাহ-খোদার নাম নিতে চাই। জীবনে যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।” তার এই বক্তব্যে চলচ্চিত্রের ঝলমলে জীবন থেকে নিজেকে স্থায়ীভাবে গুটিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছে।
১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটেছিল পপির। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
করোনা মহামারির সময় শুটিং থেকে বিরতি নেন পপি এবং নিজেও সে সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে সুস্থ হওয়ার পর ২০২১ সালের শুরুর দিক থেকেই তিনি মিডিয়াসংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন এবং বর্তমানে ‘আয়াত’ নামের চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তানের মা।
গত বছর অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও সাম্প্রতিক সময়ে এসে আর অভিনয়ে না ফেরার সিদ্ধান্তেই অনড় পপি। এখন পরিবার ও ধর্মকেই জীবনের একমাত্র অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিয়েছেন এই তারকা।