ভারতের দিল্লি ও ঝাড়খণ্ডের পর এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিহার। রাজধানী পাটনায় হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার সময় পুলিশের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় পুরো পাটনা শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন অনিয়মকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের শুরু। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে পাটনার গান্ধী ময়দান থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালের বাসভবন অভিমুখে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। ডাকবাংলো মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিতর্কিত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফলাফল ও সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দুই ধাপে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
শিক্ষার্থীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মুখে বিহারের শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার আলোচনা করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রতি মাসে ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।
বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অবিলম্বে তাদের সাথে আলোচনায় বসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে এবং তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এনডিটিভি, নিউজ১৮