২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে কয়েক দিনে ৭৫০ জনের বেশি অভিবাসী আটক

নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ৭৫০ জনের বেশি অভিবাসীকে আটক বা উদ্ধার করা হয়েছে। তারা স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ হয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

মরিতানিয়া ও সেনেগালের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ১৯ থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে এসব অভিবাসীকে আটক বা উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিনের সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

সেনেগালের নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, ২২ আগস্ট তারা ২১০ জনকে বহনকারী একটি নৌকা আটক করে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। এর আগে ১৯ আগস্ট সেন্ট লুইস উপকূল থেকে আরও ২৪৬ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। দুই অভিযানে মোট প্রায় ৪৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মরিতানিয়ার কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গাম্বিয়া থেকে ছেড়ে আসা একটি কাঠের নৌকা থেকে ৩১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের উদ্ধার করা হয়। ওই নৌকায় ৪০ শিশুও ছিল বলে জানিয়েছে এএফপি।

উদ্ধার হওয়া ৩১৫ জনের মধ্যে ছিলেন, সেনেগালের ১৯১ জন, যাদের মধ্যে ৩ নারী ও ২৯ শিশু; গাম্বিয়ার ১২৩ জন, যাদের মধ্যে ৪০ নারী ও ১১ শিশু এবং মালির ১ জন।

মরিতানিয়ার কোস্টগার্ড জানিয়েছে, মানবিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা নৌকাটিতে থাকা সবাইকে উদ্ধার করেছে। পরে আইন ও মানবিক বিধি অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়।

ইউরোপ প্রবেশের নতুন পথ :

পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার অন্যতম প্রধান যাত্রাপথ হয়ে উঠেছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সমুদ্রপথে মোট ১৪ হাজার ৪১১ জন স্পেনে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৯ শতাংশ কম।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ক্ষেত্রে এই কমার হার আরও বেশি। চলতি বছর সেখানে ৪ হাজার ৮০৮ জন পৌঁছেছেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম।

তবে অভিবাসীর সংখ্যা কমলেও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার আটলান্টিক পথ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ৯ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এই পথে মৃত্যুর হার বেড়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এর অন্যতম কারণ হলো, অভিবাসীরা এখন আরও দক্ষিণের দেশগুলো থেকে যাত্রা শুরু করছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার এক মুখপাত্র ইনফোমাইগ্র্যান্টসকে বলেন, আগে মানুষ মরক্কো বা মরিতানিয়া থেকে যাত্রা করতেন। এখন তারা গাম্বিয়া থেকে যাত্রা শুরু করছেন। ফলে তাদের দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় সমুদ্রে থাকতে হচ্ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র : ইনফোমিগ্রেন্ট

Home R3