পর্তুগালে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ, অবস্থান ও বৈধতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনে নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর হয়েছে। এর ফলে যথাযথ রেসিডেন্স ভিসা ছাড়া পর্তুগালে প্রবেশ করা বিদেশিদের সরাসরি বৈধ হওয়ার সুযোগ আরও কঠোর করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির সরকারি গেজেট ‘দিয়ারিও দা রিপাবলিকা’-তে ‘আইন নম্বর ৬২/২০২৬’ প্রকাশের পর শুক্রবার থেকে আইনটি কার্যকর হয়।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিকিউটিভ ডাইজেস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আইনটি যথাযথ ভিসা ছাড়া পর্তুগালে প্রবেশ করা বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ বা বৈধ হওয়ার সুযোগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বিদেশিদের প্রবেশ, অবস্থান, বহিষ্কার, প্রাথমিক যাচাই, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরোর অনুমোদনের পর কার্যকর হওয়া আইনটি দেশটির আগের ‘আইন নম্বর ২৩/২০০৭’-এর ৯২ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করেছে। একই সঙ্গে ওই অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে।
তবে যথাযথ রেসিডেন্স ভিসা নিয়ে পর্তুগালে আসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং লেভেল-৪ কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি থাকতে হবে, প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে এবং পর্তুগালের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এসএনএস) অথবা উপযুক্ত স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকতে হবে।
নতুন আইনটি মূলত ২০২৪ সালে পর্তুগাল সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা। ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যথাযথ রেসিডেন্স ভিসা ছাড়া দেশটিতে প্রবেশ করে সরাসরি বৈধ হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া নতুন আইনে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং কাজ ও বসবাসের একক অনুমোদন বা ‘সিঙ্গেল পারমিট’ সংক্রান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি নির্দিষ্ট নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি বা জটিল আবেদনের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে এই সময়সীমা আরও ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।