কঠোর আইনের বলি হয়ে পর্তুগাল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অভিবাসী শ্রমিকরা। সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে লিসবনসহ বিভিন্ন শহরে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বয়স্ক সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেসো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের অনেক অভিবাসী কাজ ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন বা স্পেনের মতো অন্য ইউরোপীয় দেশে চলে যাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে উচ্চ বাসাভাড়া, তুলনামূলক কম আয়, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নথিপত্র নবায়নে দীর্ঘসূত্রতা। এছাড়া কাজের স্বীকৃতি প্রক্রিয়ার সমস্যা এবং বৈষম্যের অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাইডিং শেয়ার (TVDE) খাত। সংশ্লিষ্টদের মতে, কাগজপত্র নবায়নে সমস্যার কারণে অনেক চালক কাজ করতে পারছেন না, ফলে তারা পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
রাইডিং শেয়ার ন্যাশনাল মুভমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, “এক সপ্তাহে লিসবনে প্রায় এক হাজার চালক কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন, অনেক গাড়ি এখন পার্কিংয়ে পড়ে আছে।”
অন্যদিকে, বয়স্কদের সেবা খাত, হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পও এই সংকটে পড়েছে। পর্তুগালের পর্তুগিজ মিজেরিকর্ডিয়াস ইউনিয়ন (União das Misericórdias Portuguesas) জানিয়েছে, বহু প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল ও আলগার্ভ এলাকায়। তাদের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠানে এখন অভিবাসী কর্মীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছিলেন।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ সমিতি (AHRESP)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই খাতে প্রতি তিনজন কর্মীর একজন ছিলেন অভিবাসী। কর্মী সংকট বাড়ায় সেবা খাতের কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৪৫ হাজার বিদেশি শ্রমিক পর্তুগাল ছেড়ে গেছেন, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসী শ্রমিকের এই ধারাবাহিক প্রস্থান অব্যাহত থাকলে পর্তুগালের শ্রমবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। “Emprego em Portugal” শীর্ষক এক গবেষণাতেও সতর্ক করা হয়েছে, অভিবাসী শ্রমিক ছাড়া দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাত টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে, শ্রমবাজারে এই পরিবর্তন পর্তুগালের অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : এক্সপ্রেসো