যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ও অবস্থানের বিধিনিষেধে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থীদের এতদিন ধরে পেয়ে আসা অনির্দিষ্টকালের অবস্থানের সুবিধা পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এতদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনা চলাকালীন পুরোটা সময় জুড়ে দেশটিতে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতেন। নতুন নীতিমালায় প্রচলিত এই নিয়ম বাতিল করে শিক্ষার্থীদের কোর্স ও বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া আই-টোয়েন্টি ফর্ম বা ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর ননইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’-এ কোর্স সম্পন্ন করার যে সময়সীমা উল্লেখ থাকবে, তার ওপর নির্ভর করে এই মেয়াদ নির্ধারিত হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই এই অনুমতির মেয়াদ চার বছরের বেশি হবে না।
পাশাপাশি পড়াশোনা বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শেষ করার পর দেশ ছাড়ার নিয়মটিতেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। আগে পাঠদান বা প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা ৬০ দিন সময় পেতেন। নতুন নির্দেশনায় এই সময়সীমা অর্ধেক কমিয়ে মাত্র ৩০ দিন করা হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীকে হয় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে, নয়তো অন্য কোনো বৈধ আইনি প্রক্রিয়ায় নিজের অবস্থানের ধরন পরিবর্তন করে নিতে হবে। তবে পাঠদান শুরুর ৩০ দিন আগে দেশটিতে প্রবেশের পুরোনো সুযোগটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ভাষা শিক্ষা ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নীতিমালায় আরও কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। ইংরেজি ভাষা শিখতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ২৪ মাস বা দুই বছর এবং পাবলিক হাই স্কুলে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুটিসহ সব মিলিয়ে কেবল ১২ মাস অবস্থানের সুযোগ পাবেন।
যদি কোনো শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে কোর্স সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁকে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। এর জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ, নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া যাদের ভিসার মেয়াদ কার্যকর থাকবে, তাঁরা চাইলে দেশ ঘুরে এসে পুনরায় প্রবেশের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের বৈধতা নিতে পারবেন।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নীতিমালার কারণে দেশটিতে অবস্থানরত ও গমনেচ্ছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিজেদের পড়াশোনার সময়সীমা এবং আইনি নথিপত্রের বিষয়ে এখন থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।