১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কেন জরুরি ভিত্তিতে আমেরিকার ড্রোন ভাড়ার করছে ভারত?

ভারত মহাসাগরে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমেরিকার কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে দুটি অত্যাধুনিক ‘সি গার্ডিয়ান’ ড্রোন ভাড়া নিয়েছে ভারত। মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘জেনারেল অ্যাটমিকস’-এর সঙ্গে ১ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকার এই চুক্তির আওতায় ড্রোন দুটি আগামী ৩০ মাস ভারতীয় নৌবাহিনীতে কাজ করবে।

মূলত, ভারত সরকার আমেরিকার কাছ থেকে স্থায়ীভাবে ৩১টি ড্রোন কেনার জন্য আগেই একটি বড় চুক্তি করেছে। তবে কাগজপত্রের প্রক্রিয়া এবং নির্মাণ কাজ শেষ করে কেনা ড্রোনগুলো ভারতে পৌঁছাতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যাবে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সমুদ্রে নজরদারিতে যাতে কোনো ফাঁক বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়, মূলত সেই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই দুটি ড্রোন ভাড়া করা হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জাম সরাসরি কেনার চেয়ে ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের মূল দায়িত্ব সরবরাহকারী কোম্পানির ওপরই থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে একটি ড্রোন কারিগরি ত্রুটির কারণে সাগরে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোম্পানিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভারতকে আরেকটি নতুন ড্রোন প্রদান করেছিল।

বিশ্বের অন্যতম সেরা নজরদারি যান হিসেবে পরিচিত এই সি গার্ডিয়ান ড্রোন আকাশে টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় একটানা উড়তে পারে। এটি শুধু জাহাজের গতিবিধিই নয়, পানির নিচে থাকা সাবমেরিনও শনাক্ত করতে সক্ষম।

বর্তমানে সমুদ্রপথে বৈশ্বিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা পাহারা দেওয়া ভারতের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন এই চুক্তির ফলে ২০২৯ সালে নিজস্ব কেনা ড্রোন হাতে আসার আগ পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই ভারত মহাসাগরে কড়া পাহারা চালু রাখতে পারবে ভারতীয় নৌবাহিনী।

সূত্র: আল-জাজিরা।

Home R3