৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইতিহাস সৃষ্টি করে মদিনায় উড়ল বাংলাদেশের সাফল্যের পতাকা

সৌদি আরবের মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ১৪তম ‘সংস্কৃতি ও লোকজ মেলা’ (Festival of Cultures and Peoples)-এ অনন্য এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের প্রায় ১৮৪টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় গত বছরের পঞ্চম স্থান থেকে তিন ধাপ এগিয়ে এ বছর স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি আড়ম্বরপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার কার্যক্রম শেষ হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেয়ার্ড সার্ভিসেসের আন্ডার সেক্রেটারি ড. আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম আল-কাসিম এবং অ্যাকাডেমিক অ্যাফেয়ার্সের আন্ডার সেক্রেটারি ড. আব্দুল্লাহ বিন মাহফুজ আল-শানকিতি। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ দলকে ২৫,০০০ সৌদি রিয়াল মূল পুরস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭০০, ৫০০ ও ৩০০ রিয়ালের বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ৫৫০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশি স্টলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ সাজিদুর রহমান মাদানী। এবারের মেলায় বাংলাদেশী স্টলের মূল আকর্ষণ ছিল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘রিকশা’। রিকশাটি মেলায় আসা আরব নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী শখের বসে রিকশায় চড়ে ছবি তোলেন এবং বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এই বিশাল সাফল্যের পেছনে বিশেষ অবদান ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নাহিদ হাবিবা, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর এবং মান্যবর রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি মদিনা প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে মাহবুব ও আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

এই অর্জনে শিক্ষার্থীরা মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তারা। আগামীতে প্রথম স্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

Home R3