২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আফগানিস্তানের নিরাপত্তা গোটা অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: ইরান

চোলপন-আতা (কিরগিজস্তান), প্রতিনিধি: আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পুরো অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা এ অঞ্চলের সব দেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) কিরগিজস্তানের চোলপন-আতায় অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্বাস আরাগচি আফগানিস্তানের সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, একটি স্থিতিশীল আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে ইরান সমর্থন করে। একই সঙ্গে তিনি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল, উন্নত ও সন্ত্রাসবাদমুক্ত আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠায় সহায়ক যেকোনো উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি, যেখানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার থাকবে। বিশেষভাবে আমরা আফগানিস্তান এবং আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা ও সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানাই।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজিবুল্লাহ বাহাদুর বলেন, আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি বৈশ্বিক স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের জন্য এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একই বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে বক্তব্যে তিনি আফগানিস্তানকে ঘিরে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ পুনরায় উল্লেখ করেন।

ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তান সব সময় একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ আফগানিস্তান চেয়েছে, যা নিজ দেশের ভেতরে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিতে থাকবে। তবে বর্তমানে আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হুমকি আমাদের জন্য অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, এই বৈঠকে আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পূর্ণ সদস্য দেশ ১০টি—চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও বেলারুশ। আফগানিস্তান সংস্থাটিতে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

সূত্র: তোলো নিউজ

Home R3