১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ১৭, সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব

তরুণ সমাজকে ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত করা, অকাল মৃত্যু রোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সিগারেটের প্রতি শলাকার সর্বনিম্ন মূল্য ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন—এই চারটি স্তরে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হলে প্রতিটি সিগারেটের খুচরা মূল্য দাঁড়াবে ৩৫ টাকা। একইভাবে উচ্চ স্তরে প্রতি শলাকার দাম হবে প্রায় ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা।

মধ্যম ও নিম্ন স্তরের ক্ষেত্রে ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ১৭ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর করা হলে প্রায় ৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সিগারেটের দাম বৃদ্ধি পেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ এবং তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারবে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করলে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ফুসফুস ক্যান্সারের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধূমপানই প্রধান কারণ। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিগারেটের দাম বৃদ্ধি এখন সময়োপযোগী পদক্ষেপ।