২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্র-এর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল (পিএইচডি) শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তাদের দেখা যায়। নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা এস. বৃষ্টি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা একসঙ্গেই থাকতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে সর্বশেষ তার বাসায় দেখা যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এ ঘটনায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নাহিদা এস. বৃষ্টিকে একই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে শেষবার দেখা যায়। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তার ক্ষেত্রেও নিখোঁজ রিপোর্ট করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, লিমনের বাসা থেকে বৃষ্টির সর্বশেষ অবস্থানস্থল মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে। তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং একসঙ্গে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু আগে তাদের এক পারিবারিক বন্ধু যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপরই তদন্ত শুরু হয় এবং নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর তথ্য ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, লিমন ও বৃষ্টি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তাদের মধ্যে সম্পর্কও ছিল। ভবিষ্যতে একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তবে এভাবে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার মতো কোনো ইঙ্গিত তারা আগে দেননি।

অন্যদিকে, বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, অতীতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে সক্রিয়ভাবে সম্পর্কে ছিলেন না।

নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃষ্টি তার ল্যাবে ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও খাবারের বক্স রেখে যান। তার সঙ্গে ছিল শুধু পার্স ও মোবাইল ফোন। অন্যদিকে, লিমন বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হলেও তার পাসপোর্ট বাসায় পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লিমনের ফোনের সর্বশেষ অবস্থান বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তার বাসার আশপাশে এবং বৃষ্টির ফোন বিকেল ৫টার দিকে ক্যাম্পাস এলাকায় শনাক্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত সিসিটিভিতে কোনো সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা কেউই এমনভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে থাকার মতো নন। হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় পরিবার গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং এফবিআই-এর সম্পৃক্ততা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আইসিই জানিয়েছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী তাদের হেফাজতে নেই।