ভারতে জেন-জি প্রজন্মের হাত ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ এখন রীতিমতো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা কথিত ‘তেলাপোকা পার্টি’ নামে পরিচিত এই কাল্পনিক দলটি অল্প সময়েই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে মোদি সরকারের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিসিয়াল ফলোয়ার সংখ্যার চেয়েও বেশি বলে জানা গেছে।
এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত এক শুনানিতে কিছু বেকার যুবককে ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে ততক্ষণে তা তরুণদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এই প্রেক্ষাপটে বোস্টন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। তিনি এটিকে দেশের ‘অবহেলিত ও বেকার’ তরুণদের কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
অনলাইনের জনপ্রিয়তা দ্রুতই বাস্তব জগতেও প্রতিফলিত হয়। গত শনিবার (৬ জুন) দিল্লির জন্তর মন্তরে হাজারো তরুণের অংশগ্রহণে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে এই সমাবেশ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণদের অনেকেই মাথায় তেলাপোকার মুখোশ পরে এবং ‘আমিই তেলাপোকা’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যা এই আন্দোলনের প্রতীকী রূপকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। ভারতের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ, যাদের সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশে পৌঁছানো এবং বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তাদের হতাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আন্দোলনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে অনেকেই এই পরিস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। যদিও ‘তেলাপোকা পার্টি’ নিজেকে একটি অহিংস আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করছে, তবুও এর দ্রুত বিস্তার ইতোমধ্যে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে ‘অনলাইন কৌতুক’ হিসেবে উড়িয়ে দিলেও, ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন এবং বাস্তব ময়দানে এর উপস্থিতি মোদি সরকারের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ