৩১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক

মুসলিম নারী ও তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে সংখ্যালঘু কল্যাণে নতুন উদ্যোগ থালাপাতি বিজয়ের

মুসলিম নারী ও তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে সংখ্যালঘু কল্যাণে নতুন উদ্যোগ থালাপাতি বিজয়ের

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষা, কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে ভারতের তামিলনাড়ুর থালাপাতি বিজয়ের সরকার। এসব উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মুসলিম নারী ও তরুণদের। গত ২৮ আগস্ট রাজ্য বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাব দেওয়ার সময় সংখ্যালঘু কল্যাণমন্ত্রী এ এম শাহজাহান এসব উদ্যোগের কথা জানান।

নতুন উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সরকারি কোটায় স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া যোগ্য মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি দেবে রাজ্য সরকার। সরকারি, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত এবং স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এর আওতায় কলা ও বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি ও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা যাবে। এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো মুসলিম নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো।

রোববার (৩০ আগস্ট) ভারতীয় গণমাধ্যম মুসলিম মিররের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এদিকে, তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ডের মুসলিম ছাত্রীদের জন্য চালু থাকা বৃত্তির পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেত। এখন নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীরাও এই বৃত্তি পাবে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা বছরে ২ হাজার রুপি করে পাবে। এতে প্রায় ৪১ হাজার ৩৮৪ জন স্কুলছাত্রী উপকৃত হবে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮ কোটি ২৮ লাখ রুপি।

শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়াতে চেন্নাইয়ে সংখ্যালঘু নারীদের জন্য একটি পৃথক আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স কলেজ প্রতিষ্ঠা করবে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড। এ প্রকল্পের জন্য শুরুতে ২ কোটি ৪৫ লাখ রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের রাজধানীতে সংখ্যালঘু নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুসলিম ওয়াকফ এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমিতে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, বিয়ের হলসহ আয় করা যায় এমন স্থাপনা নির্মাণের জন্য ১০০ কোটি রুপির একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল গঠন করবে রাজ্য সরকার। এই তহবিল থেকে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় ও ওয়াকফ সম্পত্তিকে কাজে লাগিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী চার বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১০ হাজার মানুষকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তামিলনাড়ু স্কিল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের মাধ্যমে রাজ্যের সব জেলায় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল, পোশাক ডিজাইন, সৌন্দর্য ও সুস্থতা, নকশিকাঁথা ও সূচিকর্ম এবং কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হলো আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ু সরকারের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। বিশেষ করে মুসলিম নারী ও তরুণদের জন্য উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আয় করার সুযোগ তৈরিতে এসব পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Home R3