২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভিনির জোড়া গোলে ‘সি’ গ্রুপের সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল

ফিরে এলো সাম্বার ছন্দ। সুন্দর ফুটবলের জাদু ফিরলো ব্রাজিলে। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিলো সেলেসাওরা। টানা তিন ম্যাচে গোল পেলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। জোড়া গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেসে টিকে থাকলেন ভিনি। এই জয়ে সি গ্রুপের সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলো ব্রাজিল। সাম্বা ছন্দে মাতলো মায়ামির গ্যালারি।
কোথাও যেন তাল-লয় মিলছিলো না। বার বার কেটে যাচ্ছিলো সুর। অবশেষে সেই পুরোনো ব্রাজিল ফিরলো। সাম্বার ছন্দে নাচলো মাঠ, নাচলো মায়ামির গ্যালারি, ঢেউ উঠলো রিও ডি জেনিরোর বালুকা বেলায়। ১৯৭০-এর পর আরো একজন কালো মানিকের খোঁজ ব্রাজিলের। এবার কী মিললো সেই রতন? সেই বার্তাই দিচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

হয়তো পথটা অনেক দূর। কিন্তু নিজের পদচিহ্ন ভিনি আঁকছেন প্রতিদিন। প্রথম ম্যাচের ত্রাণকর্তা। দ্বিতীয় ম্যাচের প্রাণ ভ্রোমরা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিধ্বংসী সুন্দর। ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিট। স্কটিশ ডিফেন্ডার ম্যাককেনির ভুল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলের খাতা খুললেন ভিনি।

কিছুক্ষণ পর আরো একবার বল জড়িয়েছেন জালে। তবে এবার ফাউলের কারণে বাতিল গোল।

ধীরে ধীরে ব্রাজিল ফিরে পাচ্ছে ছন্দ। প্রতি ম্যাচে হয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর। সেলেসাওদের সেনাপতি ভিনিসিয়ুস। স্কটিশ ডিফেন্সের ত্রাস হয়ে এলেন ভিনি। দ্বিতীয় গোলটি পেতে অপেক্ষা প্রথমার্ধের যোগ করা সময় পর্যন্ত। ডি বক্সে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে বলকে দিলেন জালের ঠিকানা।

পরিসংখ্যান বলছে বল বেশি ছিলো স্কটল্যান্ডের পায়ে। তবে মুহুর্মুহু আক্রমণে প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস তুলেছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে তবুও কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব। দ্বিতীয়ার্ধের ব্রাজিল আরো বেশি ভয়ঙ্কর। আরো সুন্দর। তাদের সামনে অসহায় টারটান আর্মিরা।

জোগো বনিতোর ছন্দে উন্মাতাল গ্যালারি। তৃতীয় গোলটি চিরন্তন ব্রাজিলের ছবি। ফিনিশিং টাচ ম্যাতিয়াস কুনহার। তার আগে ব্রুনো গিমারেসের ডিফেন্স ভেদি পাস।

সব পাওয়া হয়ে গেছে। তারপরও কোথায় যেন একটু অপূর্ণতা। তখনো মাঠে নামেননি নেইমার। প্রায় সাড়ে তিন বছর হলুদ জার্সি গায়ে সবুজ গালিচায় পা যুবরাজের। গ্যালারিতে আনন্দের ঢেউ। তার সংস্পর্ষে আক্রমণে বাড়লো গতি।

টানা ১২ আসরে গ্রুপ পর্বে কখনো দ্বিতীয় হয়নি ব্রাজিল। এবার অনেকেই ছিলেন শঙ্কায়। সব শঙ্কা উড়ে গেলো ফুৎকারে। হেক্সা জয়ের সুরে লাগলো নতুন প্রাণ।

Home R3