২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাকিস্তানের জেএফ-১৭ কিনছে ১৩ দেশ, আগ্রহী আরও ৬ দেশ

ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে (২০২৫ সালে) জেএফ-১৭ (JF-17) থান্ডার যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা প্রদর্শনের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পে আন্তর্জাতিক আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান বর্তমানে ১৩টি দেশের সঙ্গে যুদ্ধবিমান ও সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (PAC) এবং চীনের চেংডু এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জেএফ-১৭ থান্ডার একটি হালকা ওজনের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের তুলনায় কম খরচে আধুনিক সক্ষমতা দেওয়ায় এটি অনেক দেশের কাছে একটি সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতি ইউনিটের মূল্য আনুমানিক ২৫ থেকে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উন্নত এভিওনিক্স, দৃষ্টি সীমার বাইরে (Beyond Visual Range -BVR) যুদ্ধক্ষমতা এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতার কারণে বাজেট সীমাবদ্ধ বা সরবরাহ-নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর কাছে এই জেটটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদ JF-17 তৃতীয় সংস্করণ রপ্তানির বিষয়ে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা চড়ান্ত। এসব আলোচনায় যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সাঁজোয়া যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচনায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ, যাকে সবচেয়ে অগ্রসর আলোচনাকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তৃতীয় সংস্করণসহ পরিপূরক সামরিক ব্যবস্থার বিষয়ে ঢাকার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।

ইরাক, যারা তাদের বিমান বাহিনীর সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্যময় করতে আগ্রহী হয়ে কিনতে সম্মত হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া, যেখানে প্রায় ৪০টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও প্রশিক্ষণ সহায়তাসহ একটি বড় প্যাকেজ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।

সৌদি আরব, যারা ঋণ রূপান্তর বা কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় সম্ভাব্য বিকল্প পর্যালোচনা করছে।

আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে মরক্কো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও সুদান আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন পূর্ব লিবিয়ার প্রশাসনও বৃহত্তর অস্ত্র প্যাকেজের অংশ হিসেবে JF-17-এর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।

এই নয়টি দেশের বাইরে আরও চারটি দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি, যা আলোচনার সংবেদনশীলতা বা প্রাথমিক পর্যায়ের কারণে গোপন রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ ও গণমাধ্যমের ভাষ্যেআগ্রহী আরও কয়েকটি দেশের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আজারবাইজান, মিশর, জর্ডান, উজবেকিস্তান, কুয়েত ও পেরু। তবে এসব দেশের আগ্রহ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

আগ্রহ বৃদ্ধির পেছনে কারণ:

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ সংকট, বাস্তব সংঘর্ষে JF-17-এর কার্যকারিতা এবং কম খরচে আধুনিক সক্ষমতা দেওয়ার ক্ষমতা—এই তিনটি বিষয় আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। মিয়ানমার ও নাইজেরিয়ার মতো বিদ্যমান অপারেটররা বাস্তব পরিস্থিতিতে এর নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অফ ইসলামাবাদ, রয়টার্স

Home R3