বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে তিনি পুরোদস্তুর রাজনীতিতে সময় দিতে চান এবং তার একমাত্র পছন্দ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দল পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা তার কখনো ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
দলের প্রতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সাকিব বলেন, ‘আমার এত দল পরিবর্তন করার শখ নেই। আমি যখন ছোট কোনো দলেও খেলেছি, সেই দলের প্রতি অনুগত ছিলাম। আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই।’
বর্তমানে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকলেও এই অবস্থা স্থায়ী হবে না বলে বিশ্বাস করেন তিনি। দল নিষিদ্ধ থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজীবন কি কাউকে নিষিদ্ধ করে রাখা যায়? এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। জোর করে কিছুদিন দমিয়ে রাখা সম্ভব হলেও তাতে রাজনীতির কোনো উন্নতি হয় না।’
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভুলের পুনরাবৃত্তি চলতে থাকলে এ চক্র কখনো শেষ হবে না। যে দল এই ধারার অবসান ঘটাতে পারবে, তারাই মানুষের আস্থা অর্জন করবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সাকিবের মেয়াদ ছিল প্রায় সাত মাস। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করলেও নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি তার অঙ্গীকার এখনও অটুট রয়েছে বলে জানান।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মাগুরার মানুষ তাকে আবারও নির্বাচিত করবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-এ অবস্থানরত এই তারকা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, চেক জালিয়াতি ও শেয়ারবাজার সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার মুখোমুখি হতে আগ্রহী জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দ্রুত দেশে ফিরতে প্রস্তুত আছেন।
সাকিব বলেন, ‘আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কোনো সুবিধা নয়, সাধারণ নাগরিক হিসেবে হয়রানি ছাড়া আইনি প্রক্রিয়া চালানোর নিশ্চয়তা চাই।’