প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আন্দোলন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও নতুন শিক্ষামন্ত্রীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে সরগরম ভারতের রাজনীতির মাঠ। এরই মধ্যে পরীক্ষা সংস্কার কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আইনের সংশোধনী নিয়ে বিতর্কের সময় কংগ্রেস সাংসদ বলেন, পরীক্ষা সংস্কার কমিটিতে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ কেন?
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা সংস্কার কমিটিতে থাকা সাবেক ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) প্রধান তপন ডেকা এবং আইআইটি-মাদ্রাজের পরিচালক ভি. কামাকোটিকে প্রিয়াঙ্কা ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গোমূত্রের ‘জীবাণুনাশক এবং ছত্রাকনাশক’ গুণ সম্পর্কে কামাকোটির করা মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে এই কটাক্ষ করেন তিনি। প্যানেলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস. সোমনাথ, প্রাক্তন শিক্ষাসচিব অনিতা কারওয়াল এবং বিহারের সাবেক মুখ্যসচিব অমৃত লাল মীনা।
নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ যোশীর নিয়োগের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এমন একজনকে এই দপ্তরটি দিয়েছেন যিনি বিলকিস বানু মামলার আসামিদের মুক্তির পক্ষে কথা বলেছিলেন।’ ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিস বানু ধর্ষণের শিকার হন। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিসকে ধর্ষণ করার পাশাপাশি তার তিন বছরের কন্যাসহ পরিবারের সাত সদস্যকে হত্যা করা হয়। কংগ্রেস নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘এটি ভারতের মেয়েদের কাছে কী বার্তা দেয়?’
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, এটি ‘সংসদের ভেতরে চরিত্র হননের’ শামিল। তিনি মন্তব্যটি প্রত্যাহার করতে এবং প্রিয়াঙ্কাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। এছাড়া জোশী প্রিয়াঙ্কাকে তার বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে বলেন। স্পিকারও তাকে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া মন্তব্য না করতে বলেন।
এরপর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জানান, তিনি প্রমাণ দাখিল করে বক্তব্যটি সত্যতা প্রমাণ করবেন। পরে জোশী, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়া এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে লোকসভায় তার করা মন্তব্যের প্রতিবাদে স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গে দেখা করেন। পরে তার মন্তব্যগুলো নথি থেকে বাদ দেয়া হয়।