২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর পোর্তো বইমেলা

দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী পোর্তো বইমেলা।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উদ্বোধনের পর মাত্র ১৫ মিনিটেই প্রায় ৮০০ দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করেন। পোর্তোর ক্রিস্টাল প্যালেসের বাগানে আয়োজিত এবারের ১৩তম আসরে রয়েছে ১৪৪টি স্টল, যেখানে বই বিক্রেতা, প্রকাশক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি থাকছে আলোচনা, বই প্রকাশনা, সম্মেলনসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন।

পোর্তো সিটি কাউন্সিলের সংস্কৃতিবিষয়ক কাউন্সিলর জর্জ সোবরাদো বলেন, “পোর্তোর মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এই আয়োজনের এমন প্রত্যাবর্তন সত্যিই আশাব্যঞ্জক।”

এবার বইমেলাটির ১৩তম আয়োজন। এতে ১৪৪টি স্টল রয়েছে। অংশ নিয়েছে ১৩০টিরও বেশি বই বিক্রেতা, প্রকাশক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি আলোচনা, বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান, সম্মেলনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনও রাখা হয়েছে।

সোবরাদো বার্তা সংস্থা লুসাকে বলেন, “এটি এমন একটি বইমেলা, যেখানে বই ও পাঠের সঙ্গে অন্যান্য সব ধরনের শিল্পেরও সংযোগ তৈরি হয়েছে।”

এবারের বইমেলা উৎসর্গ করা হয়েছে পোর্তোর ৮৩ বছর বয়সী কবি ইনেস লোরেন্সোর প্রতি। পুরো আয়োজনজুড়ে তার সাহিত্যকর্মকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।

মেলার প্রথম দিকের দর্শনার্থীদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষার্থী। তাদের অনেকেই কম দামে পুরোনো ও ক্লাসিক বই কিনতে এসেছিলেন।

ভেটেরিনারি মেডিসিনের শিক্ষার্থী ২৩ বছর বয়সী আন্তোনিও পেদ্রোসা চার্লস ডিকেন্সের ‘ডেভিড কপারফিল্ড’ বইটি কিনেছেন। তিনি বলেন, বইমেলায় উল্লেখযোগ্য ছাড় থাকায় এটি তার কাছে “ভালো একটি কেনাকাটা” হয়েছে।

তার ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকা জোয়ানা জেসুসও পুরোনো ও সেকেন্ডহ্যান্ড বই পছন্দ করেন। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে বইমেলায় যাওয়ার মাধ্যমে তার এই আগ্রহ তৈরি হয়।

জোয়ানা বলেন, পুরোনো বইয়ের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর নিজস্ব ইতিহাস। কখনো বইয়ের পাতায় কারও হাতে লেখা নোট পাওয়া যায়, আবার কোনো পাতায় উৎসর্গের লেখা থাকে। এসব বিষয় পুরোনো বইকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

মেলার প্রথম দিনেই পরিবার ও বিদেশি পর্যটকরাও সেখানে ভিড় করেন। গাছের নিচে বাবা-মায়েরা ছোট শিশুদের বই পড়ে শোনান। পর্যটকেরা অ্যাভেনিদা দাস তিলিয়াস সড়ক এবং দোরু নদী ও আরাবিদা সেতুর দিকে তাকিয়ে থাকা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান থেকে ছবি তোলেন।

পোর্তোর ক্রিস্টাল প্যালেসের বাগানে অনুষ্ঠিত এই বইমেলা চলবে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগামী কয়েক সপ্তাহে এখানে শত শত বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

মেলার সময়সূচি হলো:

সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার: দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা
শুক্রবার: দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা
শনিবার: সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা
রবিবার: সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা।

সূত্র : দ্য রেসিডেন্ট

Home R3