জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রক্ষিত শাপলা চত্বরের শহীদদের ভাস্কর্যের মুখাবয়ব বাদ দিয়ে কেবল তাঁদের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে শৈল্পিক ও বস্তুনিষ্ঠভাবে চিত্রিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির মাওলানা মামুনুল হক।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, যেকোনো ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দৃশ্যকে তার মূল চেতনা ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ধারণ করেই উপস্থাপন করা উচিত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফ্যাসিবাদের আমলে তাঁরা একটি বড় ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী ভাস্কর্য থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের শহীদদের ক্ষেত্রে মুখাবয়ব যুক্ত ভাস্কর্যের বদলে ঘটনার প্রতীকী ও শৈল্পিক চিত্রায়ন করাই যুক্তিযুক্ত।
জাদুঘরের প্রদর্শনীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের ওপর চালানো জুলুম-নির্যাতন, মায়ের কোল খালি করে সন্তান হত্যা এবং লাশের ওপর চালানো পৈশাচিকতার চিত্র যে কারো হৃদয়কে ব্যথাতুর করবে। তিনি এই জাদুঘরকে রাষ্ট্র পরিচালকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় পাঠশালা বলে অভিহিত করেন এবং জাদুঘরের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নগুলো উন্মুক্ত না রেখে দ্রুত সুরক্ষার জোর দাবি জানান।
জাদুঘরে ইতিহাস সংরক্ষণে বৈষম্যের ক্ষোভ প্রকাশ করে বিকেএম আমির বলেন, ২০১৩ সালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হত্যাকাণ্ড, ২০১৫-১৬ সালের আন্দোলন এবং ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস এখানে বাদ পড়েছে। এছাড়া ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের মতো বর্ডার কিলিংয়ের বড় নিদর্শনও স্থান পায়নি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার মতো সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের স্মৃতিও নিরপেক্ষভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। কারো রাজনৈতিক প্রীতির কারণে ইতিহাস বাদ দেওয়া সমীচীন নয়। জুলাই অভ্যুত্থানে যাঁর যা অবদান, তাঁকে সেভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও মাওলানা তোফাজ্জল হুসাইন মিয়াজীসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষনেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।