৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাজ্জার প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

প্রায় দুই দশক ধরে গাজ্জার শাসনভার সামলানো প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অবরুদ্ধ গাজ্জায় বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনেকেই এ সিদ্ধান্তকে হামাসের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

২০০৬ সালের আইনসভা নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর ২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি দল ফাতাহর কাছ থেকে গাজ্জার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। এরপর থেকেই উপত্যকাটির শাসনভার তাদের হাতেই ছিল।

গত অক্টোবর থেকে আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে গাজ্জায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হামাস একাধিকবার জানিয়েছে, তারা দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। তবে সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে এখনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

গাজ্জার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিসের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা তার পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার এবং গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রতি আন্তরিকতা দেখানো, সমঝোতায় হওয়া ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক রূপান্তর প্রক্রিয়া সহজ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হামাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজ্জার প্রশাসন পরিচালনার জন্য গঠিত ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজ্জা, এনসিএজি, দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করুক, এটাই চায় হামাস।

আমেরিকা-সমর্থিত একটি পরিকল্পনার অধীনে গাজ্জার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো তদারকির দায়িত্ব এই কমিটির ওপর ন্যস্ত থাকবে বলে জানা গেছে।