অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত সামরিক অভিযান ও হত্যাকাণ্ডকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের সাত দশকের ঔপনিবেশিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ভারত সফরে থাকা আনোয়ার ইব্রাহিম ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
গাজায় সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে নিরন্তর বোমাবর্ষণ ও নিরীহ মানুষদের হত্যা করা চরম নৃশংসতা। গাজায় ইসরাইল যা করছে, তা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “হামাসের বয়স মাত্র ২০ বছর, কিন্তু ফিলিস্তিনে দখলদারির ইতিহাস ৭০ বছরেরও পুরোনো। মালয়েশিয়া ও ভারত উভয় দেশই ঔপনিবেশিক শাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। তাই ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরাইলের কোনো ঔপনিবেশিক তৎপরতাকে আমরা কখনই সমর্থন করতে পারি না।”
সাক্ষাৎকারে গত বছর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহালগামে ঘটে যাওয়া হামলার পেছনে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলা যায় কি না—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি সরাসরি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “কোনো ঘটনাকে এই তকমা দিতে হলে তা অকাট্য প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা ঘটেনি—তা আমি বলছি না, নিশ্চিতভাবেই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমার কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা প্রতিনিধি এসে আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করেননি যে সেখানে রাষ্ট্রীয় মদত ছিল। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
ভারতকে সুপ্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ সভ্যতার অধিকারী এক মহান দেশ হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ার ইব্রাহিম আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই ভারত ও পাকিস্তান তাদের বিদ্যমান সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে নেবে।