২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক

‘ওম নমঃ শিবায়’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ উভয়ই এক সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রকাশ করে : আরশাদ মাদানি

‘ওম নমঃ শিবায়’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ উভয়ই এক সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রকাশ করে : আরশাদ মাদানি

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেছেন, ঘৃণা ও ধর্মীয় বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। ভারতের প্রকৃত শক্তি শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে নিহিত।

তিনি বলেন, উপাসনার পদ্ধতি ভিন্ন হলেও সব ধর্মই এক পরম সত্তার প্রতি বিশ্বাসের শিক্ষা দেয়। এ প্রসঙ্গে তিনি হিন্দুদের ‘ওম নমঃ শিবায়’ এবং মুসলমানদের ‘আল্লাহু আকবার’ উচ্চারণের মধ্যে মিলের কথা উল্লেখ করে বলেন, উভয়ই এক সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রকাশ করে।

শনিবার (১৮ জুলাই) ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত হিন্দু-মুসলিম ঐক্য সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার, আন্তধর্মীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আল্লামা মাদানি বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিম ও ইসলামি আলেমদের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাই স্বাধীনতা অর্জনে কোনো সম্প্রদায়ের অবদানকে খাটো করে দেখা উচিত নয়।

রামপুরের মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলার প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন আল্লামা আরশাদ মাদানি। তিনি বলেন, কোনো আইনি বা প্রশাসনিক অনিয়ম থাকলে তা অবশ্যই তদন্ত ও আইন অনুযায়ী সমাধান করা উচিত। তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া অন্যায় হবে এবং এতে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি সব বিরোধ সংবিধান ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। বিভাজনমূলক রাজনীতিকে তিনি সামাজিক আস্থা ও জাতীয় ঐক্যের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন।

‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাব প্রসঙ্গে আল্লামা আরশাদ মাদানি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সব পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। আর জ্ঞানভাপী মসজিদ ইস্যুতে তিনি সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হয়।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি দেশবাসীর প্রতি শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘৃণার রাজনীতি পরিহার করে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুললেই ভারতের প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব।

সূত্র : মুসলিম মিরর

Home R3